Monday, 10 August 2020

দলবদল: বার্সার নজরে সিটি তারকা

0 comments

 


ম্যানচেস্টার সিটির বের্নার্দো সিলভা। ছবি : এএফপিম্যানচেস্টার সিটির বের্নার্দো সিলভা। ছবি : এএফপিআদৌ কি নেইমার পিএসজি ছেড়ে বার্সেলোনায় যাবেন? গ্যারেথ বেল কি রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়তে পারবেন? কুতিনহো কি বার্সায় থাকতে পারবেন? জেডন সানচোর কী অবস্থা? কিলিয়ান এমবাপ্পে কি রিয়ালে যেতে পারবেন? লিভারপুল-ম্যান সিটি কাকে কিনছে এবার? অন্যান্য লিগেরই-বা অবস্থা কেমন?

এ রকম হাজারো প্রশ্নের উত্তর নিশ্চিত হয়ে যাবে আর কিছুদিনের মধ্যেই। ইউরোপীয় ফুটবলে গ্রীষ্মকালীন দলবদল চলছে এখন। ইউরোপের প্রধান লিগগুলোর দলবদল চলবে অক্টোবরের ৫ তারিখ পর্যন্ত। এ পর্যন্ত কোন কোন খেলোয়াড় দল পরিবর্তন করলেন? কে কে এখনো করেননি কিন্তু করতে পারেন? কার কোন ক্লাবে যাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই নেই? আসুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক!

সাম্প্রতিক দলবদল

যেসব দলবদল হয়ে গেছে

ট্রয় প্যারট (টটেনহাম থেকে মিলওয়াল, ধার)

ম্যাক্স ক্রুস (ফেনেরবাচে থেকে উনিয়ন বার্লিন, ফ্রি)

অ্যাক্সেল দিসাসি (রিম থেকে মোনাকো, ১১.৭ মিলিয়ন পাউন্ড)

ক্রিস্টিয়ান ফ্রুখটল (বায়ার্ন মিউনিখ থেকে নুর্নবার্গ, ধার)

সারপ্রীত সিং (বায়ার্ন মিউনিখ থেকে নুর্নবার্গ, ধার)

দানিয়েল আরজানি (ম্যানচেস্টার সিটি থেকে উট্রেখট, ধার)

উইলিয়াম বিয়ান্দা (এএস রোমা থেকে জুলতে ওয়েগেরেম, ধার)

আরদা তুরান (বার্সেলোনা থেকে গ্যালাতাসারাই, ফ্রি)

অ্যালেক্সিস সানচেজ (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে ইন্টার মিলান, ফ্রি)

গুস্তাভো মাইয়া (সাও পাওলো থেকে বার্সেলোনা, ৩.৫ মিলিয়ন পাউন্ড)

পিয়েরে কালুলু (অলিম্পিক লিওঁ থেকে এসি মিলান)

পার্সি তাউ (ব্রাইটন থেকে আন্ডারলেখট, ধার)

ফেরান তোরেস (ভ্যালেন্সিয়া থেকে ম্যানচেস্টার সিটি, ২০.৯ মিলিয়ন পাউন্ড)

নাথান আকে (বোর্নমাউথ থেকে ম্যানচেস্টার সিটি, ৪১ মিলিয়ন পাউন্ড)

টিমো ভের্নার (আর বি লাইপজিগ থেকে চেলসি, ৪৮ মিলিয়ন পাউন্ড)

হাকিম জিয়েখ (আয়াক্স থেকে চেলসি, ৩৬ মিলিয়ন পাউন্ড)

মিরালেম পিয়ানিচ (জুভেন্টাস থেকে বার্সেলোনা, ৫৪ মিলিয়ন পাউন্ড)

ভিক্টর ওসিমহেন (লিল থেকে নাপোলি, ৬৩ মিলিয়ন পাউন্ড)

টমাস মঁনিয়ে (পিএসজি থেকে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড, ফ্রি)

আলভারো নেগ্রেদো (আল নাসর থেকে কাদিজ, ফ্রি)

লিরয় সানে (ম্যানচেস্টার সিটি থেকে বায়ার্ন মিউনিখ, ৪১ মিলিয়ন পাউন্ড)

জুড বেলিংহাম (বার্মিংহাম সিটি থেকে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড, ২৫ মিলিয়ন পাউন্ড)

আর্থুর মেলো (বার্সেলোনা থেকে জুভেন্টাস, ৬৫ মিলিয়ন পাউন্ড)

সান্তি কাসোরলা (ভিয়ারিয়াল থেকে আল সাদ, ফ্রি)

আশরাফ হাকিমি (রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ইন্টার মিলান, ৩৬ মিলিয়ন পাউন্ড)

আনহেল গোমেস (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে লিল, ফ্রি)

ম্যাক্সিম গনালনস (এএস রোমা থেকে গ্রানাদা, ৩.৬ মিলিয়ন পাউন্ড)

জোয়েল ভেল্টমান (আয়াক্স থেকে ব্রাইটন, ০.৯ মিলিয়ন পাউন্ড)

সিমোনে ভের্দি (নাপোলি থেকে তোরিনো, ১৮ মিলিয়ন পাউন্ড)

দানি গোমেস (রিয়াল মাদ্রিদ থেকে লেভান্তে, ২.৩ মিলিয়ন পাউন্ড)

দেজান লভরেন (লিভারপুল থেকে জেনিত সেন্ট পিটাসবার্গ, ১০.৯ মিলিয়ন পাউন্ড)

টমাস সুচেক (স্লাভিয়া প্রাগ থেকে ওয়েস্ট হাম, ১৯.১ মিলিয়ন পাউন্ড)

লিওনার্দো বালের্দি (বরুসিয়া ডর্টমুন্ড থেকে মার্শেই, ধার)

সুসো (এসি মিলান থেকে সেভিয়া, ২১.৭ মিলিয়ন পাউন্ড)

কনস্তানতিনোস মাভ্রোপানোস (আর্সেনাল থেকে স্টুটগার্ট, ধার)

সিমোন কায়ের (সেভিয়া থেকে এসি মিলান, ৩.২ মিলিয়ন পাউন্ড)

সলোমোন কালু (হার্থা বার্লিন থেকে বোটাফোগো, ফ্রি)

ওমর তোপরাক (বরুসিয়া ডর্টমুন্ড থেকে ভেরডার ব্রেমেন, ৩.৬ মিলিয়ন পাউন্ড)

হোয়াং হি চ্যান (রেড বুল সালজবুর্গ থেকে আর বি লাইপজিগ, ৮.১ মিলিয়ন পাউন্ড)

মার্টিন টেরিয়ার (লিওঁ থেকে রেনেঁ, ১০.৭ মিলিয়ন পাউন্ড)

তাঙ্গি কুয়াসি (পিএসজি থেকে বায়ার্ন মিউনিখ, ফ্রি)

ম্যাথিউস ফার্নান্দেস (পালমেইরাস থেকে বার্সেলোনা, ৬.৩ মিলিয়ন পাউন্ড)

বুরাক ইলমাজ (বেসিকতাস থেকে লিল, ফ্রি)

লুকাস মাই (বায়ার্ন মিউনিখ থেকে ডার্মস্টাট, ধার)

এভার বানেগা (সেভিয়া থেকে আল শাবাব, ফ্রি)

যেসব দলবদল হতে পারে

বের্নার্দো সিলভা (ম্যানচেস্টার সিটি থেকে বার্সেলোনা)

কনস্তানতিনোস সিমিকাস (অলিম্পিয়াকোস থেকে লিভারপুল)

ইথান আমপাদু (চেলসি থেকে ফুলহাম)

সান্দ্রো তোনালি (ব্রেসিয়া থেকে ইন্টার মিলান/এসি মিলান)

পেদ্রো রদ্রিগেজ (চেলসি থেকে এএস রোমা)

হ্যারি উইলসন (লিভারপুল থেকে বোর্নমাউথ/লিডস ইউনাইটেড/সাউদাম্পটন)

হোসে হুয়ান মাসিয়াস (গুয়াদালাহারা থেকে রিয়াল সোসিয়েদাদ)

জোশুয়া কিং (বোর্নমাউথ থেকে পিএসজি)

কেইতা বালদে দিয়াও (মোনাকো থেকে ভ্যালেন্সিয়া)

ক্রিস্তফ পিওন্তেক (হার্থা বার্লিন থেকে ফিওরেন্টিনা)

নিকোলাস ওতামেন্দি (ম্যানচেস্টার সিটি থেকে ভ্যালেন্সিয়া)

বার্ট্রান্ড ট্রায়োরে (অলিম্পিক লিওঁ থেকে রিয়াল বেতিস)

ক্রিস উড (বার্নলি থেকে লাৎসিও)

রিকার্দো রদ্রিগেজ (এসি মিলান থেকে তোরিনো)

প্যাট্রিক দে পলা (পালমেইরাস থেকে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ/মার্শেই/ইন্টার মিলান)

হামেস রদ্রিগেজ (পিএসজি/আর্সেনাল/ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড)

কালিদু কুলিবালি (নাপোলি থেকে পিএসজি)

ডেভিড আলাবা (বায়ার্ন মিউনিখ থেকে পিএসজি)

মিলান স্ক্রিনিয়ার (ইন্টার মিলান থেকে পিএসজি)

ডেভিড নেরেস (আয়াক্স থেকে লিল)

লুকাস তোরেইরা (আর্সেনাল থেকে এসি মিলান/অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ/ফিওরেন্টিনা)

জেকি চেলিক (লিল থেকে টটেনহাম)

লওতারো জিয়ানেত্তি (ভেলেজ সার্সফিল্ড থেকে রিয়াল বেতিস)

নিকোলা মিলেঙ্কোভিচ (ফিওরেন্টিনা থেকে ইন্টার মিলান)

জ্যাঁ-ক্লাইর তোদিবো (বার্সেলোনা থেকে লেস্টার সিটি/এভারটন)

বেন হোয়াইট (ব্রাইটন থেকে লিভারপুল/লিডস ইউনাইটেড)

গ্যাব্রিয়েল মাগালহেস (লিল থেকে আর্সেনাল/ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড/এভারটন)

ফেলিপে কায়সেদো (লাৎসিও থেকে আল ঘারাফা)

অ্যালেক্স মেরেত (নাপোলি থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড)

ক্লদিও ব্রাভো (ম্যানচেস্টার সিটি থেকে রিয়াল বেতিস)

দিওগো লেইতে (পোর্তো থেকে ভ্যালেন্সিয়া)

নিকোলাস গঞ্জালেস (স্টুটগার্ট থেকে এসি মিলান/এএস রোমা/নাপোলি/লাৎসিও/ইন্টার মিলান)

জর্জিনহো (চেলসি থেকে জুভেন্টাস)

বরনা বারিসিচ (রেঞ্জার্স থেকে লিডস ইউনাইটেড)

মার্সেলো ব্রোজোভিচ (ইন্টার মিলান থেকে টটেনহাম/বায়ার্ন মিউনিখ)

ফিকায়ো তোমোরি (চেলসি থেকে রেনেঁ)

শালেয়ার সোয়ুঞ্চু (লেস্টার সিটি থেকে বার্সেলোনা)

এডিনসন কাভানি (পিএসজি থেকে অ্যাটলেটিকো মিনেইরো)

জোনাথান ডেভিড (জেন্ট থেকে লিল)

সভেন উলরেইখ (বায়ার্ন মিউনিখ থেকে সেল্টিক)

জোয়াও ফেলিক্স (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ থেকে ম্যানচেস্টার সিটি)

মার্কোস আলোনসো (চেলসি থেকে সেভিয়া)

দাভিদে কালাব্রিয়া (এসি মিলান থেকে সেভিয়া/রিয়াল বেতিস)

এরিক গার্সিয়া (ম্যানচেস্টার সিটি থেকে বার্সেলোনা)

জামাল লুইস (নরউইচ সিটি থেকে লিভারপুল)

অ্যারন রামসডেল (বোর্নমাউথ থেকে শেফিল্ড ইউনাইটেড)

থমাস লেমার (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ থেকে এভারটন)

অ্যালান (নাপোলি থেকে এভারটন)

সাদিও মানে (লিভারপুল থেকে রিয়াল মাদ্রিদ)

রাফায়েল লিয়াও (এসি মিলান থেকে রিয়াল মাদ্রিদ)

হাভি মার্তিনেজ (বায়ার্ন মিউনিখ থেকে রেনেঁ)

তিমু বাকায়োকো (চেলসি থেকে এসি মিলান)

রাফিনিয়া আলকানতারা (সেল্টা ভিগো থেকে এভারটন/উলভারহ্যাম্পটন)

হুসাম আউয়ার (অলিম্পিক লিওঁ থেকে জুভেন্টাস)

হোসে হিমেনেজ (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ থেকে চেলসি)

এমারসন (রিয়াল বেতিস থেকে পিএসজি)

জেডন সানচো (বরুসিয়া ডর্টমুন্ড থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড)

তাহিত চং (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে ভেরডার ব্রেমেন)

দানি পারেহো (ভ্যালেন্সিয়া থেকে ভিয়ারিয়াল)

ফ্রানসিস কোকেলান (ভ্যালেন্সিয়া থেকে ভিয়ারিয়াল)

মেম্ফিস ডিপাই (অলিম্পিক লিওঁ থেকে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড)

জোনাথন ইকোনে (লিল থেকে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড)

থিয়াগো আলকানতারা (বায়ার্ন মিউনিখ থেকে লিভারপুল/পিএসজি)

আইসা মান্দি (রিয়াল বেতিস থেকে লিভারপুল)

সার্জিও রেগিলন (রিয়াল মাদ্রিদ থেকে চেলসি/নাপোলি)

কাই হাভের্তজ (বেয়ার লেভারকুসেন থেকে চেলসি)

লুইস ডাঙ্ক (ব্রাইটন থেকে চেলসি)

উইলিয়ান (চেলসি থেকে আর্সেনাল/টটেনহাম/বার্সেলোনা)

পিয়েরে এমিল হোইবিয়ার্গ (সাউদাম্পটন থেকে টটেনহাম)

লুকা ইয়োভিচ (রিয়াল মাদ্রিদ থেকে মোনাকো)

তাকেফুসা কুবো (রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ভিয়ারিয়াল)

ফ্রানসিসকো ত্রিনকাও (বার্সেলোনা থেকে লেস্টার সিটি)

মার্টিন ব্রাথওয়াইট (বার্সেলোনা থেকে ওয়েস্ট হাম)

ইভান রাকিতিচ (বার্সেলোনা থেকে সেভিয়া)

হাভিয়ের পাস্তোরে (রোমা থেকে জেনিত)

ফিলিপে কুতিনহো (বার্সেলোনা থেকে আর্সেনাল)

ব্রাহিম দিয়াজ (রিয়াল মাদ্রিদ থেকে রিয়াল বেতিস/গেতাফে)

লিও দুবোয়া (অলিম্পিক লিওঁ থেকে পিএসজি)

ডেভিড সিলভা (ম্যানচেস্টার সিটি থেকে লাৎসিও)

সার্জিও রিকো (পিএসজি থেকে লাৎসিও)

বেন চিলওয়েল (লেস্টার সিটি থেকে চেলসি)

নিকোলাস তাগলিয়াফিকো (আয়াক্স থেকে চেলসি)

মারিও বালোতেল্লি (ব্রেসিয়া থেকে সিএফআর ক্লুজ)

নুনো মেন্দেস (স্পোর্টিং লিসবন থেকে রিয়াল মাদ্রিদ)

এভারটন (গ্রেমিও থেকে বেনফিকা)

Read full post »

রোনালদোর রেকর্ড নিয়ে আগ্রহ নেই লেবানডফস্কির

0 comments

 রোনালদোর রেকর্ড ভাঙতে পারবেন লেবানডফস্কি? ছবি: রয়টার্স

রেকর্ডটি সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে বলেই মনে হয়েছিল। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো নিজেও যে বহু চেষ্টাতেও সেটা করে দেখাতে পারেননি। ২০১৩–১৪ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতানোর পথে অবিশ্বাস্য ঠেকা ১৭ গোল করেছিলেন রোনালদো। টানা তিন চ্যাম্পিয়নস লিগে জেতানোর পথেও সেটা আর ছোঁয়া হয়নি তাঁর। সর্বোচ্চ এক মৌসুমে ১৬ গোল ছিল তাঁর। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে যেতেও পারে। দুর্দান্ত ছন্দে থাকা রবার্ট লেবানডফস্কির পক্ষে এবার সম্ভব রোনালদোকে চূড়া থেকে সরানো।

এ মৌসুমে এরই মাঝে ৫৩ গোল হয়ে গেছে লেবানডফস্কির। মাত্র ৩১ লিগ ম্যাচে ৩৪ গোল করেছেন। চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে চেলসিকে দুই লেগ মিলিয়ে ৭-১ ব্যবধানে হারিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। সবগুলো গোলেই অবদান ছিল লেভার। তিনটি গোলে করেছেন, করিয়েছেন চারটি। গত পরশু করা দুই গোলে চ্যাম্পিয়নস লিগের চতুর্থ সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে গেছেন এই পোলিশ স্ট্রাইকার। ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতায় এখন ৬৬ গোল তাঁর। রোনালদোর ১৩০ গোলের রেকর্ড ভাঙা হয়তো তাঁর পক্ষে সম্ভব হবে না, কিন্তু এ মৌসুমে ১৩ গোল করা লেবানডফস্কির পক্ষে মৌসুমে ১৭ গোলের রেকর্ড ভাঙা সম্ভব।

বার্সেলোনার সঙ্গে কোয়ার্টার ফাইনালের পর সম্ভাব্য আরও দুটি ম্যাচ পাবেন লেবানডফস্কি। ৭ ম্যাচে ১৩ গোল করা এক স্ট্রাইকারের পক্ষে বাকি সম্ভাব্য ৩ ম্যাচে ৪ গোল করার আশা করাই স্বাভাবিক। ওদিকে বায়ার্ন মিউনিখে যাওয়ার পর ঘরোয়া সব শিরোপার স্বাদ পেলেও চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা হয়নি এই স্ট্রাইকারের। তাই নিজের রেকর্ড নয়, দলকে শিরোপা এনে দেওয়া নিয়েই যত চিন্তা তাঁর, 'এটা আমার লক্ষ্য নয় (রোনালদোর রেকর্ড)। আমাদের সামনে আরেকটি নকআউট ম্যাচ, দল হিসেবে খুবই ভালো একটা ম্যাচ খেলতে হবে আমাদের। আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভালো খেলে এবং পরের রাউন্ডে যাওয়া। সেমিফাইনালে যেতে হলে আমাদের দেখাতে হবে আমরা ভালো (বার্সেলোনার চেয়ে)। '

সাবেক জার্মান কিংবদন্তি লোথার ম্যাথাউস সেমিতে বার্সেলোনার খুব একটা সুযোগ দেখছেন না। বলেছেন, বায়ার্ন খুব বাজে না খেললে সেমিতে ওঠার সম্ভাবনা নেই বার্সেলোনার। লেবানডফস্কি অতটা নিশ্চিত নন। মাত্র এক লেগের কোয়ার্টার ফাইনালে বার্সেলোনার মতো সমৃদ্ধ ইতিহাসের এক ক্লাবকে যথাযথ সম্মান দেখাচ্ছেন এই স্ট্রাইকার, 'বার্সেলোনা বরাবরই বিপজ্জনক এবং দারুণ ফুটবল খেলে। প্রথম মিনিট থেকেই আমাদের মনোযোগী হতে হবে এবং মান দেখাতে হবে। সেরা দলই পরের ধাপে খেলবে।'

Read full post »

Sunday, 9 August 2020

ঘাস কাটার কাঁচি চুরির শাস্তি যখন যাবজ্জীবন

0 comments

 

ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের লুইসিয়ানা অঙ্গরাজ্যে। রায়টিও লুইসিয়ানা সুপ্রিম কোর্টের। ফেয়ার ওয়েন ব্রায়ান্ট, একজন কৃষ্ণাঙ্গ, যাঁর বর্তমান বয়স ৬২ বছর। গত সপ্তাহে ঘাস কাটার তিনটি বড় কাঁচি চুরি করার ‘চেষ্টার’ অপরাধে তাঁর যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের শাস্তি লুইসিয়ানা সুপ্রিম কোর্ট বহাল রাখেন। প্রশ্ন হচ্ছে, কেন এই রায় নিয়ে এত আলোচনা-সমালোচনা। আলোচনা বা সমালোচনা কেনইবা নয়—উল্টো প্রশ্নও ছুড়ে দেওয়া যেতে পারে।

লুইসিয়ানায় আমেরিকান কালো মানুষদের ইতিহাস অনেক পুরোনো এবং ঐতিহাসিক। কুয়েন্টিন টারান্টিনো পরিচালিত বিখ্যাত হলিউড মুভি ‘জ্যাঙ্গো-আনচেইনড’–এও এই লুইসিয়ানার কালো মানুষদের দিনযাপন, কৃষিতে তাঁদের শ্রম, তাঁদের বেঁচে থাকার সংগ্রাম এবং সাদাদের সঙ্গে তাঁদের প্রতিনিয়ত লড়াইয়ের চিত্র ফুটে উঠেছিল।


লুইসিয়ানা সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া এ রায় এরই মধ্যে সারা বিশ্বের বড় বড় গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে, হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। কিন্তু প্রশ্ন উঠতে পারে, কেনইবা একজন কৃষ্ণাঙ্গ অপরাধীর যাবজ্জীবন সাজা নিয়ে এত আলোচনা। কারণ তো আছেই। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হলো ঘটনাটি আমেরিকার লুইসিয়ানা অঙ্গরাজ্যের, যাবজ্জীবন হওয়া মানুষটি একজন কৃষ্ণাঙ্গ, বয়স ৬২, যিনি ৩৮ বছর বয়সে গ্রেপ্তার হয়ে ইতিমধ্যে ২৩ বছর জেল খেটেছেন। তাঁর অপরাধ, কৃষিকাজে ব্যবহৃত সামান্য ১০০ ডলার মূল্যের কয়েকটি বড় কাঁচি চুরির চেষ্টা। বিচারকদের মধ্যে ভিন্নমতদাতা বা এই শাস্তির বিপক্ষে মত দেওয়া বিচারকও একজন কৃষ্ণাঙ্গ এবং নারী। বাকি পাঁচ বিচারপতি, যাঁরা যাবজ্জীবনের পক্ষে রায় দেন, তাঁরা সবাই শ্বেতাঙ্গ এবং পুরুষ। রায়টি এমন এক সময় এল, যখন যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বে চলছে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলন।

নথিপত্রে দেখা যায়, সাজাপ্রাপ্ত ব্রায়ান্ট এই চুরির চেষ্টা করেছিলেন ১৯৯৭ সালে। এর আগেও তিনি ১৯৭৯, ১৯৮৭, ১৯৮৯ ও ১৯৯২ সালে এমন কিছু ডাকাতি, চেক প্রতারণা ও চুরির ঘটনা ঘটিয়েছিলেন, যেগুলোর সব কটিতে তাঁর শাস্তি হয়। লুইসিয়ানার ‘হ্যাবিচুয়াল অফেন্ডার’ আইনে এসব ঘটনার শাস্তি এক করে যোগ করলে তাঁর যাবজ্জীবন শাস্তি মোটামুটিভাবে আইন–সমর্থিত বলাই যায়। লুইসিয়ানার স্টেট লেজিসলেচারের ‘হ্যাবিচুয়াল অফেন্ডার’ আইনের ধারা ৫২৯-১–এর আওতায় এই শাস্তি দেওয়া হয়।

কিন্তু ঘটনা মোড় নিল অন্যদিকে, যখন লুইসিয়ানা সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বার্নেট জনসন এই রায়ে ভিন্নমত পোষণ করে বসলেন এবং লিখিত রুলিং দিলেন। বার্নেট একাধারে একজন আমেরিকান কৃষ্ণাঙ্গ ও নারী এবং ওই কোর্টের প্রথম প্রধান আফ্রিকান-আমেরিকান নারী বিচারপতি। তিনি বললেন, ‘ওয়েন ব্রায়ান্ট এরই মধ্যে ২৩ বছর সাজা খেটেছেন। তাঁকে খাওয়াতে, পরাতে এবং সুস্থ রাখতে করদাতা নাগরিকদের পকেট থেকে গেছে ৫ লাখ ১৮ হাজার ৬৬৭ মার্কিন ডলার। যদি তিনি আরও ২০ বছর বাঁচেন, তাহলে লুইসিয়ানার করদাতাদের আরও ১০ লাখ মার্কিন ডলার খরচ করতে হবে এই অপরাধীকে তাঁর “শাস্তি” ভোগ করাতে।’

এ তো গেল আধুনিক আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে একজন ‘সামান্য অপরাধের’ অপরাধীকে জেলে পুরে করদাতাদের পকেট কাটার একটি দিক। এবার জনসন তাঁর কলম তাক করলেন অন্য একটি বিষয়ে। তা আরও মারাত্মক! তিনি হ্যাবিচুয়াল অফেন্ডার আইনের আওতায় দেওয়া এই শাস্তিকে বহু পুরোনো ‘পিগ-লজ’–এর সঙ্গে তুলনা করে বসলেন। পিগ-লজ সম্পর্কে একটু না বললেই নয়, এটি মূলত আমেরিকায় ১৯০৯ সালে ভ্যাগরেন্সি আইন উদ্ভূত একটি পরিভাষা, যেখানে পুলিশ কর্মকর্তাদের অসীম ক্ষমতা দেওয়া ছিল খামারের প্রাণী চুরির অপরাধে যে–কাউকেই গ্রেপ্তার করে কঠিনতর শাস্তির মুখোমুখি করতে। আর তখন খামারে মূলত কাজ করতেন দাসত্বমুক্ত কৃষ্ণাঙ্গরা। অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন, পিগ-লজ মূলত করা হয়েছিল ফ্রি-আমেরিকান-ব্ল্যাকদের পুনরায় দাসত্বের শিকলে আবদ্ধ করতে। এই জন্য প্রধান বিচারপতি জনসন এই হ্যাবিচুয়াল অফেন্ডার আইনে কাউকে এই রকম ভয়াবহ রকমের দীর্ঘ সশ্রম কারাদণ্ডের শাস্তি দেওয়াকে ওই ‘পিগ-লজ’–এর আধুনিক সংস্করণ বলে আখ্যায়িত করেন। তাঁর এই আখ্যান যে একেবারেই অমূলক নয়, তা আমরা ‘দ্য গার্ডিয়ান’–এর করা এক জরিপে দেখতে পাই। সেখানে দেখা যায়, লুইসিয়ানা অঙ্গরাজ্যের কারাগারে হ্যাবিচুয়াল অফেন্ডার আইনের আওতায় শাস্তি ভোগরত ৮০ শতাংশ কয়েদিই কালো এবং অপরাধের পেছনে মূল কারণ দারিদ্র্য অথবা মাদক।

জনসন আরও বলেন, ব্রায়ান্টের প্রতিটি অপরাধ হচ্ছে কিছু চুরির ‘চেষ্টা’ করা মাত্র। এই সামান্য ছিঁচকে চুরি মানুষ হয়তো করে দারিদ্র্যের কারণে অসহায় হয়ে অথবা নেশায় পড়ে অথবা দুটো মিলিয়েই। কারও ওপর এমন দারিদ্র্যতাড়িত এবং নেশার পাল্লায় পড়ে করা ফৌজদারি আচরণের জন্য যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড আরোপ করা আসলে অনেক নিষ্ঠুর এবং অস্বাভাবিক মনে হয়।

‘মাত্র তিনটি কাঁচি চুরির ব্যর্থ চেষ্টার কারণে একজন অপরাধীর যাবজ্জীবন শাস্তি অপরাধের মাত্রার সঙ্গে কোনোভাবেই আনুপাতিক নয় এবং এমনতর শাস্তি আদতে কোনো বৈধ দণ্ডাদেশ হাসিল করে না।’ জনসন তাঁর লিখিত রায়ে এই গুরুত্ব দেন।

এখানে একটি মজার বিষয় হচ্ছে, আপিলকারী ব্রায়ান্ট মূলত ডিসট্রিক্ট আপিলেট কোর্টের হ্যাবিচুয়াল আইনে দেওয়া তাঁর যাবজ্জীবনের শাস্তিকে ‘অসাংবিধানিক’ ঘোষণা করা হোক, তা চেয়েছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীর এবং লুইসিয়ানা স্টেট সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২০–এর আওতায় এর একটি সুযোগও ছিল। যেখানে অস্বাভাবিক, নিষ্ঠুর, ও অতিমাত্রার শাস্তিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সামনে একটি যুগান্তকারী জুডিশিয়াল রিভিউয়েরও সুযোগ ছিল। কিন্তু ৫:১–এ হেরে গিয়ে ব্রায়ান্টের শেষ আশাটুকুও আর থাকল না। উল্লেখ্য, ওই পাঁচ সাদা-পুরুষ বিচারকের কেউই তাঁদের রায়ের পক্ষে কোনো লিখিত রুলিং দেননি, আর আরেকজন প্যানেলে আসতে অপারগতা প্রকাশ করেন। যেহেতু হ্যাবিচুয়াল অফেন্ডার আইনটি একটি স্টেট লেজিসলেচার, তাই মোটামুটিভাবে বলা যায়, এই রায়ের বিরুদ্ধে ব্রায়ান্টের ইউএস সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সুযোগ খুবই কম। কারণ, স্টেট লেজিসলেচারের বেলায় স্টেট সুপ্রিম কোর্টের রায়ই চূড়ান্ত। সাধারণত ফেডারেল ইস্যুগুলো ইউএস সুপ্রিম কোর্টে যায়।

অনেক খেলা বা যুদ্ধ থাকে, যেখানে প্রতিপক্ষ এক নিমেষেই হেরে গেলেও রেখে যায় কিছু ইতিহাস, কিছু ভাবনার খোরাক, যার ওপর ভর করে হয়তো ভবিষ্যতে জিতে যায় সেই হেরে যাওয়া পক্ষের অনুজেরা। এই রায় ঠিক তেমনই একটি রায়। এখানে বিচারপতি জনসনের একক লড়াই বা ব্রায়ান্টের আপিল ৫:১–এ হেরে গেলেও এই রায়ের গর্ভে এমন অনেক কিছু আছে, যা আইন অঙ্গনে অনেক দিন ধরে চিন্তার খোরাক হিসেবে কাজ করবে। খেয়াল করলে দেখা যায়, প্রধান বিচারপতি জনসন ছাড়া বাকি পাঁচ শ্বেতাঙ্গ বিচারপতির কেউই লিখিত রুলিং প্রকাশ করেননি। এই পাঁচজন শ্বেতাঙ্গ পুরুষ বিচারপতি এই রায়ে আইনের আক্ষরিক ব্যাখ্যা এবং অপরাধের উপাদান ও অপরাধীর অভিপ্রায়কে বেশি গুরুত্ব দেন, অন্যদিকে প্রধান বিচারপতি জনসন দেখান, অপরাধের মাত্রার সঙ্গে শাস্তির পরিমাণ আনুপাতিক নয়। তিনি দেন ‘গোল্ডেন ইন্টারপ্রিটেশন অব ল’ এবং অপরাধের পেছনের মোটিভকে দেন বেশি গুরুত্ব। তিনি হ্যাবিচুয়াল অফেন্ডার আইনে পেলেন আধুনিক যুগে ব্ল্যাক আমেরিকানদের দাস বানানোর উপকরণ। এই আইনের আওতায় কেউ সামান্য অপরাধ করলেও তাকে আজীবন বা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য জেলে রাখা যায়, যা লুইসিয়ানার সংবিধানের অনুচ্ছেদ-২০–এর মারাত্মক ব্যত্যয়। প্রধান বিচারপতি জনসনের এই ভিন্নমতাবলম্বী রুলিং ওই অঙ্গরাজ্যের সাংবিধানিক সংকটের দিকে আমাদের দৃষ্টিপাত করায়।

তবে কিছুটা বাইরের, কিন্তু এই ঘটনার সঙ্গে প্রাসঙ্গিক একটি বিষয় হলো, এই প্রধান বিচারপতি জনসনকে ফেডারেল ডিসট্রিক্ট কোর্টে তাঁর জ্যেষ্ঠতা প্রমাণ করার জন্য মামলা করে সেই মামলা জিতে প্রধান বিচারপতি হতে হয়েছিল। এই ২০২০ সাল শেষে প্রধান বিচারপতি জনসন আর নির্বাচনে দাঁড়াবেন না বলে জানান। যাবজ্জীবনের পক্ষে মত দেওয়া আরেক বিচারপতি উইমার হতে যাচ্ছেন পরবর্তী প্রধান বিচারপতি। তিনি কার্যভার গ্রহণ করবেন ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি।

হয়তো কোনো এক দিন এই রায় নিয়ে অনেক আলোচনা হবে, মামলার ঘটনা নিয়ে মুভি তৈরি হবে, ল জার্নালে আর্টিকেল লেখা হবে। তবে যা–ই করা হোক না কেন, ফেয়ার ওয়েন ব্রায়ান্টের সঙ্গে যা হলো, তা যে অনেক ‘ফেয়ার’ হলো, তা কিন্তু কোনোভাবেই বলা যাচ্ছে না। কারণ, আইনে ‘ফেয়ারনেস’ শব্দটি সুন্দরতম একটি শব্দ।

Read full post »

চামড়া সস্তা, জুতা কেন নয়

0 comments


পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানি দেওয়া লাখ টাকা দামের গরুটির চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে সাড়ে তিন শ টাকায়। শুধু এ বছর নয়, গত বছরও ছিল একই চিত্র। কিন্তু বিপণিবিতানে মোটামুটি পছন্দসই এক জোড়া জুতা কিনতে তিন হাজার টাকা লেগে যাচ্ছে।

বেসরকারি চাকরিজীবী নাজমুল হোসেনের ক্ষোভ এখানেই। তাঁর প্রশ্ন, চামড়া পানির দরে বিক্রি হলে জুতার দাম কেন কমবে না? এই লেখায় সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে। দেখা হয়েছে, সস্তা চামড়ার সুযোগ নিয়ে চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনকারী ও বিক্রেতাদের মুনাফা কতটা বেড়েছে।

আগে কিছু সাধারণ তথ্য জেনে নিন। এবার এক লাখ টাকায় যেসব গরু বিক্রি হয়েছে, তার চামড়ার আয়তন ২৫ থেকে ৩০ বর্গফুট হতে পারে। যদি চামড়াটি ৪০০ টাকায় বিক্রি করেন, তাহলে প্রতি বর্গফুটের দাম পেয়েছেন ১৫ টাকার আশপাশে। চামড়াটি কয়েক দফা হাতবদল ও লবণের মূল্য যোগ হওয়ার পর ট্যানারিতে যেতে যেতে দাম বর্গফুটপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকায় ঠেকেছে।

চামড়া প্রক্রিয়াকরণের তিনটি ধাপ। ওয়েট ব্লু, ক্রাস্ট ও ফিনিশড। লেদার টেকনোলজিস্ট ফিরোজ আলম তালুকদার বলেন, এক বর্গফুট চামড়া তিন পর্যায়ে প্রক্রিয়া করতে মোট ৩৫ থেকে ৬০ টাকা ব্যয় হয়। এত ব্যয়ের কারণ রাসায়নিকের পেছনে খরচ। চামড়ায় ৩০ থেকে ৪০ ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করতে হয়। আবার একটি ট্যানারি কোন মানের চামড়া উৎপাদন করবে, তার ওপর ব্যয় নির্ভর করে।

বর্তমান দামে জুতার উপরিভাগের জন্য মোটামুটি ভালো মানের চামড়া তৈরি করতে খরচ বর্গফুটপ্রতি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা। আর জুতার ভেতরে ব্যবহারের জন্য সাধারণ চামড়ার পেছনে বর্গফুটপ্রতি খরচ ৩৫ টাকার মতো। এরপর ট্যানারির শ্রমিক, প্রশাসনিক ব্যয়, ঋণের সুদ ও অন্যান্য ব্যয়ের সঙ্গে মুনাফা যোগ করে চামড়ার দাম দাঁড়াবে।

তিন হাজার টাকা দামের একটি জুতার উৎপাদন ব্যয় কত, তা জানতে চেয়েছিলাম দুটি ব্র্যান্ডের কাছে। তারা যে হিসাব দিয়েছে তাতে দেখা যায়, উৎপাদন খরচ মূলত ১ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে থাকে, যা মোট দামের ৪০ শতাংশ। এর মধ্যে চামড়ার ব্যয় মোটামুটি ২৫০ টাকা। এই ব্যয়ের মধ্যে আবার একেবারে কাঁচা অবস্থায় চামড়ার দাম ৬০ থেকে ৭০ টাকা। তার মানে হলো কাঁচা চামড়ার দাম অর্ধেকে নামলেও জুতার মোট দামে প্রভাব খুব সামান্য। উল্লেখ্য, এক জোড়া জুতা তৈরিতে দুই থেকে সোয়া দুই বর্গফুট চামড়া লাগে।

চামড়ার পাশাপাশি জুতা তৈরিতে সোল, কাপড়, অ্যাকসেসরিজ (উপকরণ) ও আঠা লাগে, যা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আমদানি করতে হয়।

জানতে চাইলে বে ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, জুতার মূল ব্যয়টি আসলে বিপণন ও শোরুম খরচে। বাংলাদেশে শোরুমের ভাড়া ও অগ্রিম জমা অনেক বেশি। তিনি বলেন, চামড়ার দাম কমলেও মজুরি-বেতন, জ্বালানির দাম, ভাড়াসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে খরচ বাড়ছেই।

দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোকে নানা বিষয় বিবেচনায় নিতে হয় বলে জানান জিয়াউর রহমান। তাঁর দাবি, বড় ব্র্যান্ড যে পরিমাণ জুতা বিক্রি করে, তার মাত্র ২০ থেকে ৩০ শতাংশ চামড়ার। এ জন্য লাভের পরিমাণ একটু বাড়িয়ে ধরা হয়। এ ক্ষেত্রে একটি ব্যবসাকৌশল হলো, চামড়ার জুতার দাম একটু বাড়িয়ে ধরা। আর তুলনামূলক কম আয়ের মানুষের বাজার ধরতে কম দামি পণ্যের মার্জিন (লাভের হার) কমিয়ে ধরা। এর কারণ, যারা চামড়ার জুতা কেনে, তাদের ক্ষেত্রে দাম কিছুটা বেশি হলেও তেমন প্রভাব পড়ে না।

আরেকটি বিষয় হলো, একটি মডেলের জুতা তৈরির পর অনেক ক্ষেত্রেই ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ অবিক্রীত থাকে। সেই জুতা বিশেষ ছাড় দিয়ে বিক্রি করতে হয়। একসময় কেজি দরে বিক্রি করে দিতে হয়। সারা পৃথিবীতেই ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলো এটি বিবেচনায় নিয়ে পণ্যের দাম নির্ধারণ করে।

দাম বেশি কেন, সে ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের নানা অজুহাত থাকতেই পারে। দেখতে হবে, জুতা ব্যবসায়ী কোম্পানির মুনাফা পরিস্থিতি কী।

এ ক্ষেত্রে আমরা দেশের জুতার বাজারে শীর্ষস্থানীয় দুই কোম্পানি বাটা শু বাংলাদেশ ও অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের আয়-ব্যয়ের হিসাব বিশ্লেষণ করেছি। তারা পুঁজিবাজারে নিবন্ধিত কোম্পানি। হিসাব তাদের ওয়েবসাইটেই রয়েছে।

অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) ৭৫৮ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি করছে। মোট লাভ বা গ্রস প্রফিট ২৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ, যা চামড়ার দামে পতন হওয়ার আগে (২০১৭-১৮ অর্থবছরে) ২১ শতাংশের মতো ছিল। তাহলে দেখা যাচ্ছে, অ্যাপেক্সের মোট লাভের হার কিছুটা বেড়েছে। মোট লাভ থেকে কোম্পানিকে বিপণন ও প্রশাসনিক ব্যয় করতে হয়। সরকারের করও দিতে হয়। সেদিকে তাকালে দেখা যাবে, পরিস্থিতি খারাপের দিকেই যাচ্ছে।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে অ্যাপেক্সের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল সাড়ে ১১ টাকার মতো। সেটা সর্বশেষ ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের হিসাবে (জুলাই-ডিসেম্বর) ৫ টাকা ১৮ পয়সায় নেমেছে। মানে হলো, চামড়ার দাম কমলেও অ্যাপেক্সের শেয়ারপ্রতি আয় কমছে।

চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) বাটার বিক্রির পরিমাণ ছিল ১৬৪ কোটি টাকা। মোট লাভ বা গ্রস প্রফিট সাড়ে ৪৩ শতাংশ। ২০১৬ সালে চামড়ার দাম যখন ভালো ছিল, তখন বাটার মোট লাভের হার ছিল ৪০ শতাংশ। এর মানে হলো, চামড়ার দাম কমে যাওয়ায় বাটার মোট লাভ অনেক বেড়ে গেছে, তা নয়। বরং ইপিএস পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে।

যেমন করোনার আঘাত আসার আগে চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ সময়ে বাটার ইপিএস দাঁড়িয়েছে দুই টাকার কিছু বেশি। গত বছর তা ছিল তিন টাকার বেশি। এর আগে কয়েক বছরে আলোচ্য প্রান্তিকে ইপিএস কয়েক গুণ বেশি ছিল।

ভালো নেই চামড়া রপ্তানিকারকেরাও। কয়েক বছর ধরে রপ্তানি আয় ধারাবাহিকভাবে কমছে। এটি ছিল দেশের রপ্তানি আয়ের দ্বিতীয় শীর্ষ খাত। এখন চামড়া চার নম্বরে নেমে গেছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে চামড়া খাতে রপ্তানি আয় ছিল ১২৩ কোটি ডলারের বেশি। সর্বশেষ ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা ৮০ কোটি ডলারে নেমেছে।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সাধারণ সম্পাদক মো. শাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, লাভ অনেক বেশি হতো, তাহলে চামড়া নিয়ে কাড়াকাড়ি লাগত। কিন্তু কেউ তো চামড়া কেনায় ততটা আগ্রহ দেখাল না। তিনি বলেন, ‘আমরা কত দরে চামড়া বিক্রি করি, সে হিসাব সরকারের কাছে আছে। বড় কথা হলো, চামড়ায় অনেক মুনাফা হলে ট্যানারিগুলোর বেশির ভাগ খেলাপি হতো না।’

সর্বশেষ খবর হলো, করোনাকালের তিন মাসে (এপ্রিল-জুন) বাটা লোকসানে গেছে। অ্যাপেক্সের হিসাব এখনো আসেনি। আরেকটি শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড তাদের ১২টি শোরুম গুটিয়েছে।

Read full post »
 

Copyright © 2012 TEST Bloog Design by Free CSS Templates | Blogger Theme by BTDesigner Published..Blogger Templates| Powered by Blogger